Mridha Vs Mridha (2021) Bengali WEB-DL -720P | 480P | 1080P Download
Name: Mridha vs Mridha (মৃধা বনাম মৃধা)
Genres: Family Drama,Romance,imotion…
Cast: Siam Ahmed,Nova Firoz,Tariq Anam Khan,Sanjida Preety etc…
Released Date: 24 December 2021
Personal Rating: 7.5/10
স্পয়লার এলারট…
আসলে শুরুতেই বলে নেই,যারা একশন সিনেমা লাভার তারা পোস্ট টা বয়কট করুন।কেননা এটা একটা ফ্যামিলি ড্রামা,বাবা ছেলের কাহিনির সিনেমা।
আমাকে যদি বলা হয়,সর্বশেষ কোন বাংলাদেশি সিনেমা দেখে কেঁদেছ?আমি এদিক উদিক চিন্তা না করেই বলব “মৃধা বনাম মৃধা” ।
সিনেমার প্রথম অর্ধাংশে দেখানো হয়,বাবা ছেলের ঝগড়া,বিভিন্ন সমস্যা র বিষয়।একদিন ঝগড়া এমন পর্যায়ে চলে যায়,সিয়াম কথায় কথায় বৃদ্ধাশ্রমের কথা বলে ফেলে।সেখান থেকেই সিয়ামের বাবা আশরাফুল মৃধা সিয়ামের (আশফাকুল মৃধা) নামে মামলা করেন।সিয়ামের বাবা হচ্ছেন পঅবসরপ্রাপ্ত উকিল।সেখান থেকেই মুলত মৃধা বনাম মৃধা।
আদালতে সিয়াম এর উকিল সাঞ্জিদা প্রীতি সিয়ামের জীবনের মর্মান্তিক ঘটনা বলেন।তার বাবা কতটা নিষ্ঠুর,পাশান এবং স্বার্থপরায়ণ।যার কারনে সিয়ামের জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্ত হারিয়ে গেছে।সিয়ামের পছন্দ অপছন্দ ্তার বাবার ভয়ে কোনদিন বলতে পারে নি।
অন্যদিকে তারিক আনাম খান তার সন্তানের বিপক্ষে আদালতে রায় দেন।সিনেমার শেষ অংশে চোখের পানি আটকাতে পারিনি।মুলত হাফ টাইমের পর থেকেই বিভিন্ন সংলাপ,কষ্টের বিষয় চরম ইমুশনাল করে দিয়েছে।সিনেমায় ইমুশন টাকে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।সিয়ামের অন্যতম সেরা অভিনয়।আর সাথে আছেন লিজেন্ডারি তারিক আনাম খান।
সিনেমার শেষে তারিক আনাম ও সিয়ামের কথোপকথন এবং শেষ ১০ মিনিট আমাকে কাঁদতে বাধ্য করেছে।সিনেমায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।
সত্যি কথা বলতে ৯০ দশকে বাংলাদেশে অনেক ফ্যামিলি সিনেমা হত।এরপর অনেক টাই কমে গেছে।অনেকদিন পর বাংলাদেশি কোন সিনেমা দেখে এতটা ইমুশনাল হয়েছি।
এই সিনেমায় প্রত্যেকটা মানুষ তাদের জীবনের কোন না কোন অংশ মিল পাবে।
তাছারা সিনেমার শেষের দিকে তারিক আনাম ও বাড়ির কাজের লোকের সেই রাতেরবেলার ইমুশনাল সিনটাও অন্তরে লেগেছে।সেই চরিত্রে যিনি ছিলেন,তাকে দিয়ে এরকম ভাল সিনেমা করানো যেতে পারে।
নুভা ফিরোজ ভাল অভিনয় করেছে।আর সিয়াম একেক সিনেমায় একেক রকম চরিত্রে অভিনয় করে অসাধারন করছে।কিছু রাগের সিন গুলাতে চরম ছিল।আর ইমুশনাল ক্ষেত্রে ত বললাম ই।
নেগেটিভঃ নায়িকা টা একটু বেশি মুটা হয়ে গেছে।এমনিতে অভিনয়,লুক সবই ভাল ছিল।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ট্রেইলার নিয়ে।সিনেমার যেই মেইন বিষয়,যেই বিষয় গুলা এই সিনেমার আকর্ষণের মেইন উপাদান।সেগুলা ট্রেইলারে দেয়া হ্য় নি।যার কারনে সিনেমা হলে ভাল চলে নি।অনেকে হয়ত সিনেমার নাম ও জানে না।ট্রেইলার সিনেমার ইনকামের অনেক বড় একটা বিষয়।সিনেমা ভাল,অথচ ট্রেইলারের বাজে অবস্থা।ট্রেইলার আমারও ভাল লাগে নাই।মুলত,সিনেমার প্রিমিয়ার শো এর দর্শক,অভিনয় শিল্পীদের রিএকশন দেখেই হলে গিয়েছিলাম সিনেমা দেখতে।পয়সা উসুল করা সিনেমা।
ভাল সিনেমা কে সাপোর্ট করুন।তাহলেই বাংলা সিনেমা এগিয়ে যাবে।অনেকে মুখে বলে,বাংলা সিনেমায় অশ্লীলতা ছিল এক সময়।তাই পারিবারিক সিনেমা হয় না এখন।অথচ,সেটা হলে হল এ গিয়ে দেখেন না।তাহলে কিভাবে হবে।
গল্পে তারিক আনাম খানের ছেলে সিয়াম আহমেদ। তাদের মধ্যে মতের অমিল আছে আবার ভালোবাসাও আছে। তারিক আনাম কিছু জেদী কাজ করেন যেগুলো সিয়ামের পছন্দ না। সিয়াম বাবার জন্য কিনলেও দিতে সাহস পায় না দূরত্বের কারণে। দূরত্ব থাকলেও ভালোবাসাটা আছে। সিয়ামের জীবনে একটা ভালো সুযোগ আসে তারপর বাবা-ছেলের মধ্যে নতুন একটা ক্রাইসিস দেখা দেয়। বাবা-ছেলের গল্পটা অন্যদিকে টার্ন করে।
ড্রামাটিক গল্পে যে ধরনের উপাদান থাকার দরকার এ ছবিতে আছে। বাবা-ছেলের মধ্যে দূরত্বটা এমন যে একটা কিছু কিনলেও সিয়াম বাবাকে দিতে সাহস পায় না। দূরত্বের এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো বড় দিকে টার্ন করে এবং যা চিন্তা করা যায়নি তাও ঘটছিল। একদিকে সিয়ামের সিদ্ধান্ত অন্যদিকে তারিক আনামের এভাবে ছবিতে ড্রামার জায়গাটা তৈরি হয়েছে। ছবিতে সূক্ষ্ম কিছু মানবিক বোধ দেখানো হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ইদ, ইগো, সুপার ইগো-র ব্যবহার তারিক আনাম ও সিয়ামের চরিত্রায়ণের মধ্যে ছিল। ছবির পরিচালক এটি সচেতনভাবে ব্যবহার করেছেন কিনা সেটা স্পষ্ট বলা যায় না তবে এসেছে মনে হবে।
তারিক আনাম, সিয়াম ফোকাসে ছিল অভিনয়ে এবং তারা চমৎকার তার সাথে নোভার অভিনয়ও উল্লেখযোগ্য। সানজিদা প্রীতির চরিত্রটি তার সক্ষমতা অনুযায়ী কম ছিল। সানজিদা অনেক ভালো অভিনেত্রী তার জন্য আরো স্ট্রং কিছু দরকার ছিল। ছবির ব্যাাকগ্রাউন্ড মিউজিক উল্লেখ করার মতো ছিল না। প্রথমার্ধ্বের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধ্ব স্লো ছিল।
‘ওরে আমার বাপ
এবার দাও না করে মাফ,
তোমার তালে চলা বড়ই কঠিন
বড্ড কঠিন কাজ’
এ গানটি বেশ মজার ছিল।
‘মৃধা বনাম মৃধা’ ভালো গল্পের ভালো ছবি হয়ে থাকল বছর শেষের সময়টাতে।
মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটির ওটিটি সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে টফি (toffee)। এমনটা সচরাচর দেখা যায় না এবং এটা অবশ্যই ভালো দিক। এমন অনেক প্রশংসনীয় চলচ্চিত্র আমাদের দেশে রিলিজ হয়, যেগুলো সম্প্রচার করার জন্য কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তেমন আগ্রহ দেখায় না। সে তুলনায় এই উদাহরণ বেশ ব্যতিক্রম। কিন্তু কথা হলো, চলচ্চিত্রটি কি আদৌ সিনেমাহলে মুক্তির টার্গেট নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল?
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content