পৃথিবীতে প্রথম আলো এনেছিলো কে? বাইবেলে লেখা আছে Samael বা Lucifer Morningstar, স্বর্গের সেই দিব্য আলো আনা শুধু নয় জগতের সৃষ্টিকর্তা ভগবানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল সে ই প্রথম, একদিক থেকে বলতে গেলে মানুষের মধ্যে যে প্রতিবাদী মনোভাব তার পূর্বসুরী সে ই। ঈশ্বর দেবদূত, দানব, প্রথম মানুষ আদম ইভ, পশু পাখি ইত্যাদি সবকিছু সৃষ্টি করেছিলেন, এবং কাকে কি করতে হবে তা ও তিনিই বলে দেন। এই শেষ কাজটা পছন্দ হয়নি লুসিফারের, সে চায়নি কেও তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক, নিজের বেছে নেওয়া জীবনের পথে চলতে চেয়েছিলো সে। ঈশ্বরের অন্যতম প্রিয় আদম ও ইভ কে ঈশ্বর তার স্বর্গ উদ্যানের ‘জ্ঞান ফল ‘ খেতে বারণ করেন, কিন্তু মানুষকে যা বারণ করা হয় তা করার ইচ্ছাই তো মানুষের মনে প্রবল হয়। সেই ইচ্ছাকে আদম অনেকটা দমন করতে পারলেও পারেনি ইভ, লুসিফার এর কাছে সেই ইচ্ছা সে প্রকাশ করে ফেলে এবং লুসিফার তাকে তার ইচ্ছা পুরন করতে পরামর্শ দেয়। সেটাই লুসিফার এর দিব্যশক্তি, সকলের মনের ইচ্ছের কথা জানতে পারে সে, সে কিন্তু কারো মনে কোনো ইচ্ছে সৃষ্টি করে না, মনের গভীরে জমে থাকা প্রবল ইচ্ছেকে দেখে ফেলে শুধুমাত্র। তবে এই সব কাজে বিরক্ত হয়েই হোক আর রেগেই হোক ঈশ্বর তাকে স্বর্গ থেকে বহিস্কার করে, এবং নরকে পাঠায় পাপী দের শাস্তি দিতে, এই সৃষ্টির প্রথম “fallen” হলো সে। এটাই লেখা আছে বাইবেলে, তারসাথে ভগবানের ভক্তরা লুসিফার কে বর্ণনা করেছে ডেভিল, মিথ্যেবাদী, অত্যাচারী, ভুল পথে চালনাকারী হিসেবে। Netflix এই চরিত্র টাকে নিয়ে 6 সিজনের এক সিরিজ করেছে, এবং দেখিয়েছে তাকে সম্পূর্ন অন্যভাবে।
Netflix এর লুসিফার কয়েক যুগ ধরে নরকে শাসনের পর বিরক্ত হয়ে চলে আসে পৃথিবীতে, এসে ওঠে LA বা লস এঞ্জেলেসে। সঙ্গে আসে সবচেয়ে বিশ্বস্ত অনুচর Mazikeen। এখানে Lux বলে এক বিলাসবহুল নাইটক্লাবের মালিক হয়ে বসে সে। সব ঠিকঠাক ই চলছিলো, কিন্তু হঠাৎ করে তার জীবনে এসে পরে Detective Chloe Decker, প্রেমে পরে ডেভিল। এখান থেকেই Netflix এর Lucifer এর গল্প শুরু। LAPD বা লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রাইভেট কনসালটেন্ট হয় সে, সাহায্য করতে থাকে তার প্রিয় Dectective কে crime সলভ করতে। পরে আমরা দেখতে পাই Chloe ই ও লুসিফার এর প্রেমে পরে। তবে এই সিরিজ টাকে যদি শুধুই এক প্রেমের গল্প বলে ভাবেন তাহলে ভুল করবেন; হ্যাঁ প্রেম তো আছেই, কিন্তু সেটাই সব নয়। তার সাথে আছে আরো অনেক কিছু, অনেকে, যারা প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে অবদান রেখেছে এতে। সে ‘soleless’ Mazikeen ই হোক, বা ঈশ্বরের সবচেয়ে প্রিয় পুত্র Amendadiel, কিংবা Dr Linda, বা Chloe র এক্স Dan, বা Ella, সবাই; আরো কতোজন ই যে আছে এতে, আলাদা করে ছাপ রেখে গেছে এই সিরিজে।
Lucifer এর এই সিরিজ আমার কাছে এক জার্নি। কিভাবে পরে যাওয়া একজন উঠে দাড়াতে পারে মাথা উঁচু করে, নিজেকে নতুন করে চিনতে পারে, অন্য নজরে দেখতে পায় দুনিয়াকে, বুঝতে পারে পিতা মাতা সবসময় নিজের সন্তানের ভালো চায়, তাকে ভালোবাসে; শুধু তাই নয় সে শেখে ক্ষমা করতে, হতোদ্যম হয়ে পরা মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, কষ্ট লাঘব করে অতৃপ্ত আত্মার, “Ruler” হয়ে ওঠে “Healer”। যেকোনো মানুষের কাছেই Lucifer এর এই জার্নি প্রেরণা দেবে জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার, সব ভুলে নতুন করে চলার, লুসিফার নিজেই বলে, “কারণ যদি স্বয়ং ডেভিল নিজেকে পারে বদলাতে তাহলে যে কেউ পারবে”।
এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি ভালো যেটা আমার লেগেছে সেটা হলো অভিনেতাদের কাস্টিং ও অ্যাক্টিং। Lucifer হিসেবে Tom Ellis যে অভিনয়টা করেছেন আমি জানি না আর কেও তার চেয়ে ভালো করতে পারতেন কিনা, এক কথায় বলা যায় “অতুলনীয়”, এই একজনই যে কোনো দর্শকের মন মাতিয়ে দিতে পারে, বাকিদের তো বাদ ই দিলাম; প্রত্যেকেই নিজের নিজের চরিত্রকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সিরিজটির মিউজিক প্রয়োগ, গান, গল্পের বাধনী, আলোর ব্যবহার, CGI এফেক্টস সব ই আমার ভালো লেগেছে।
সব শেষে বলবো এই সিরিজটা যদি দেখতে চান তাহলে দেখে ফেলুন, পস্তাবেন না। আপনি যদি ঈশ্বরে বিশ্বাসী হন তাহলেও দেখুন, না হলেও দেখুন, কারণ এতে ধর্মীয় জিনিস বেশি দেখানো হয়নি, এক সাধারন মানুষের যেসব সমস্যা হয় সেগুলোই দেখানো হয়েছে, এবং কিভাবে তা জয় করা যায় সেটা সম্পর্কেও একটু ধারনা দেওয়া আছে। সব শেষে Lucifer এর একটা ডায়ালগ দিয়ে লেখাটা শেষ করছি, “The best thing to do is always to follow your greatest desire.” যদি আমার লেখাটা পড়ে আপনার একটুও ইচ্ছে জাগে সিরিজটা দেখার তবে দেখে ফেলুন, দমিয়ে রাখবেন না নিজের মনের
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content