Dhamal (দামাল) Bangla Movie Download Review /দামাল ফুল মুভি ডাউনলোড
‘দামাল’ (স্পয়লার নেই)
শুরুতে যদি বলি তাহলে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল ফুটবল পাগলদের নিয়ে সাজানো হয়েছিলো একটি ফুটবল দল যার নাম দেয়া হয়েছিলো ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’। যারা যুদ্ধ করেছে খেলার মাঠে। ফুটবল ছিলো যাদের যুদ্ধ করার অস্ত্র। আর এই ফুটবল দলের পেছনের গল্পটিকে নিয়ে রায়হান রাফি নির্মাণ করেছে ‘দামাল’।
গল্পটিতে পরিচালক পুরো ফুটবলকে বানিয়েছেন আবেগের একটি নাম। যেখানে ফুটবলই ছিলো পাগলামি, দুরন্ত ছুটে চলা, আবার ছিলো ভালোবাসাও! একটা সময় ফুটবল মাঠেই ভেসে উঠবে একটি যুদ্ধচিত্র। স্বজন হারানো বেদনা নিয়েও যারা বুকে সাহস নিয়ে লড়াই করে গেছেন সেই মানুষ গুলোকে দেখা যাচ্ছিলো হার না মানা এক যুদ্ধের ময়দানে। যেখানে জয়ের বিকল্প নেই। কারণ এই খেলা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সহায়তা করা হবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের। কেনা হবে অস্ত্র যা দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়াবে ‘দামাল’ যোদ্ধারা।
সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ এবং সিয়াম আহমেদ। দুজনের ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে একটি সেরা কাজ হয়ে থাকবে। ইন্তেখাব দিনারের দুটি লুকের দেখা পাওয়া যাবে সিনেমায়। একটি তার বয়সকালের অন্যটি কোচ থাকাকালীন সময়ের। মজার বিষয় হচ্ছে দুটি সময়েই তিনি জুগিয়েছেন প্রেরণা। সিনেমার ট্রেলারেই জানান দেয়া হয়েছিলো রাশেদ মামুন অপু থাকছেন নেগেটিভ চরিত্রে অর্থাৎ পাকবাহিনীর সহায়তাকারী হিসেবে। পুরো সিনেমায় তিনি তার বাংলা উর্দুর মিশেলে পুরোপুরি ভাবে মিশে ছিলেন তার কটু মিয়া চরিত্রটিতে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, কটু মিয়ার মতো ১৯৭১ সালে এমন অনেক মানুষ ছিলেন যারা মুক্তিযোদ্ধাদের পাকবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। প্রয়াত অভিনেতা কায়েস চৌধুরী ছিলেন রাজ অর্থাৎ মুন্নার বাবার চরিত্রে। পেশায় ডাক্তার এই লোকটি চিকিৎসা দিয়ে গেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের। তবে একজনের চরিত্রের কথা বলতেই হবে যার নাম হাসনা। হাসনা চরিত্রটির মধ্যে মিম প্রাণ দিতে পারবেন কতটা, এটা নিয়ে আমার বেশ শংকাই ছিলো। তবে সেই শংকা উড়ে গেছে মিমের পারফরম্যান্স দেখে। যেন বাঘিনীর রূপ ধারণ করেছিলেন তিনি। সুমিও তার জায়গায় ভালো করেছেন তবে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স করেছেন সুমিত সেনগুপ্ত। তবে সৈয়দ বাবু আরেকটু ভালো করতে পারতেন। পাকবাহিনীর মেজর চরিত্রে তাকে মানিয়েছে ভালো এবং উর্দু ভাষার সাথে তার ভয়েসটাও দারুণ লেগেছে কিন্তু উর্দু বলার ধরনে সামান্য দুর্বলতা দেখা গেছে যেটা আরও ভালো হতে পারতো। এছাড়া বাকি যারা ছিলেন সকলেই তাদের জায়গায় ভালো করেছেন।
সিনেমায় কালার গ্রেডিং এবং সেট ডিজাইন ছিলো দুর্দান্ত। তবে ভিএফএক্স এর ব্যবহার আরও ভালো করা যেতো। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে কখন কার বিপরীতে এবং কোন স্থানে খেলা গড়িয়েছে সেটিও স্ক্রিনে উল্লেখ করা হয়েছে যেটা ভালো লেগেছে। সিনেমার গান গুলো আগেই ভালো লেগেছিলো তবে বড় স্ক্রিনে গুজবাম্প দিয়েছে টাইটেল ট্র্যাকটি। সিনেমাতে একটা উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো নারীদের ফুটবলকে তুলে আনা। নারীদের ফুটবল খেলা নিয়ে আমাদের সমাজে বিশেষ করে গ্রামে এখনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। ‘মেয়েরা হাফ প্যান্ট পড়ে ফুটবল কেন খেলবে’? এই কথাটার জবাব নারীরা যে নিজেদের খেলার মধ্যেদিয়েই দিয়েছেন এবং দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ‘আমরা নারী কিন্তু আমরাও পারি’! ভালো লেগেছে মেয়েদের ফুটবলের সাফল্য সিনেমায় তুলে ধরাটা।
‘দামাল’ রায়হান রাফির এখন পর্যন্ত সেরা নির্মাণ আমার কাছে মনে হয়। সময় করে দেখে নিতে পারেন সিনেমাটি।
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content