সিনেমা: মুখোশ
পরিচালক: বিরসা দাসগুপ্ত
IMDb: ৭.৮/১০ (১৩৫)
আমার রেটিং: ৭/১০
-‘ আমার মনে হচ্ছে আমি ফেলুদাকে মিট করছি’
– ‘ পার্সোনালি আমি কিন্তু আবার ব্যোমকে শের খুব বড় ফ্যান।…’
১ ঘণ্টা ১৩ মিনিটের মাথায় পর্দার ফেলুদার সাথে পর্দার ব্যোমকেশের দেখা হবার পর গরমাগরম এই ডায়লগে হলভর্তি হাততালি পড়েছিল কিনা জানা নেই, কিন্তু সম্ভবত একমাত্র এটিই বিরসা দাশগুপ্তের মস্তিষ্কপ্রসূত নিজস্ব ডায়লগ, বাদবাকি পুরোটাই ২০২০ সালের জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি আনজাম পথিরা র ফ্রেম টু ফ্রেম কপি। তবে পরিচালক পুরানো রাজদার মতোই বেশ ঝকঝকে ভাবে রিমেক করেন – গল্প হলেও সত্যি আমার বেশ ভালো লেগেছিল। তবে মারাত্মক কিছু স্পয়লার না হলেও টোটা রায়চৌধুরীকে ছবির পোস্টার ও বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে সরিয়ে একটু সযত্নে রেখে দিলে ভালো করতেন। তুরুপের তাস বলে কথা! তবে পরিচালক যখন করেন নি, আমরাই আর রাখঢাক করবো কেন ?
গল্প যদিও সবার পরিচিত, কলকাতা শহরে পর পর একাধিক পুলিশ খুন হতে থাকেন(খুন করে অপারেশন করে হার্ট বের করে নেন, তারপর পাশে খুনি একটি ক্রিশ্চানদের পরিচিত বিশেষ ধরণের ক্রস রেখে যান, যা দুঃখ বা বেদনার ইঙ্গিতবাহী); তাই হেড অফিসার কাবেরীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে তার তদন্ত শুরু হয়; যার অন্যতম এক্সপার্ট ক্রিমিনাল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কিংশুক ( অনির্বাণ) ডাক পান। এর পর একে একে ছবিতে বেশ কিছু টুইস্ট আসে, যায় রেশ একদম শেষ দৃশ্য অবধি বজায় থাকে।
চিত্রনাট্য বেশ টানটান করে লেখা, যার জন্য সাসপেন্স বজায় থাকে। কিন্তু শেষ আধঘণ্টা বড়ই দীর্ঘ মনে হচ্ছিল আমার। থ্রিলার ছবিতে খুব একটা গান থাকে না, এখানেও নেই। ব্যকগ্রাউন্ড যথাযথ, তবে একটা দৃশ্যে শার্লক সিরিজ থেকে ঝেড়ে দিয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফির কাজ বেশ সুন্দর – একটি দৃশ্যে যখন বলা হচ্ছে খুনি পুলিশদের উপর সব সময় নজর রাখছে , ওই মুহূর্তে ক্যামেরার চালচলন লক্ষণীয়। অভিনয়ে অনির্বাণ ও স্ত্রীর ভূমিকায় পায়েল দে ( স্টার জলসার পেটেন্ট করা দুর্গা) মোটামুটি। অনির্বাণ চক্রবর্তী সবসময় একেনবাবু মোডেই থাকেন। তবুও এখানে একটু স্বাভাবিক লাগল। টোটার অভিনয় ভাল লাগল ।
শেষ দৃশ্যে অতিথি শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় এক নায়িকার মাইক্রো ক্যামিও আছে ।
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content