বই – মিথ পঞ্চদশ
লেখক- কৌশিক দত্ত
প্রকাশক – পার্চমেন্ট
মুদ্রিত মূল্য – ২৮৫ টাকা
সংগ্রহ করেছি বইসুখ থেকে ( 79982 33822)
“মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী বিষয়ে আলোচনা প্রচুর। কিন্তু অনেক মন্দিরকে জড়িয়েই বয়ে চলে অজস্র মিথ। এই বইয়ে পশ্চিমবঙ্গের ১৫টি মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মিথের কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে নানা সময়ের বিবিধ সমাজভাষ্য। মন্দিরের মিথসন্ধানী এই বইটি তাই আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চার এক জরুরি উপাদান।”
আমরা বিভিন্ন সময়ে ঘুরতে গিয়ে নানা ভংগ্নপ্রায় কিম্বা আঞ্চলিক কোনো দেবদেবীর মন্দিরের সামনে উপস্থিত হই। মন্দিরের গায়ে ফলক এর লেখা দেখে খানিক অনুমান করার চেষ্টা করি, কিন্তু বেশিভাগ সময়ই তা বিফলে যায়। তখন আমরা আশেপাশের গ্রামে কিংবা লোকালয়ে খোঁজখবর করি, তাদের মধ্যে যিনি বয়স্ক ব্যক্তি তিনি কিছু জেনে থাকলে আমাদের জানান। এগুলোই জনশ্রুতি। কিন্তু আমরা ১০০% নিশ্চিত হয়ে বলতে পারিনা যে এগুলো সত্যি বা এগুলো মিথ্যে। তার জন্য দরকার গবেষণা। সেই কাজটি নিপুণ ভাবে করেছেন কৌশিক বাবু। বিভিন্ন গ্রন্থপঞ্জির সহায়তায় তিনি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন ইতিহাসকে। লেখক একজন গবেষকের লেখাকে কখনো প্রামাণ্য ধরেননি, সকলের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নিজের অর্জিত সকল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন পাঠকের সাথে। কিছু জায়গায় অবশ্য তিনি কিছু কথা পাঠকের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন। কিছু জনশ্রুতি, চাইলে বিশ্বাস করো নাহলে গল্পের মতো পড়ে যাও। (নীচে ছবি দিলাম)
আমি বিশ্বাস করেছি। লেখকের বক্তব্য থেকেই বলি – যুক্তির বিচারে এই সব কিংবদন্তীর মূল্য কতটা জানিনা তবে মানুষের বিশ্বাসের কোনো এক মহাশক্তির আশ্রয়ের যে মনস্তাত্বিক সান্তনার আভাস। সিদ্ধকাম হবার বা পুণ্যলাভ করার যে মানসিক জোর সেটি প্রত্যক্ষ করা যায় এই মন্দিরে আগত ভক্তদের দেখে।
শুধু মন্দিরের ইতিহাস বা জনশ্রুতি যে আছে তা নয়, প্রতিটা অধ্যায় এর শেষে রয়েছে তার আশেপাশের কিছু দর্শনীয় স্থাপত্যের কথাও। রয়েছে প্রতিটি মন্দিরের বিশেষ কিছু উৎসবের বর্ণনা।
এবার আসি কিছু খারাপ লাগার ব্যাপারে।
পশ্চিমবঙ্গের মন্দিরের কথা বলা হলেও কেবল দক্ষিণবঙ্গের মন্দিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে আলোচিত গ্রন্থটি। উত্তরবঙ্গের কোনো মন্দির এই গ্রন্থে স্থান পায়নি।
চমৎকার বাইন্ডিং এর এত সুন্দর বই এর মাঝে সাদাকালো ফটো যেন একটু বেমানান, রঙিন ফটো ব্যবহার হলে হয়তো বেশী ভালো লাগতো।
এছাড়া চমৎকার একটি বই। কোনো মুদ্রণের দোষ নেই। হার্ডকভার বইয়ের শেষে রয়েছে পনেরোটি মন্দিরে যাওয়ার যাত্রাপথও। সেই যাত্রাপথ ধরে চললেই পেয়ে যাবেন “মন্দিরের মিথ, মিথের মন্দির। “
©সৌপর্ণ
#প্রতিটা_উপহার_হোক_বই
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content