পুরোটাই বাস্তব
*************
পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি – তাণ্ডবলীলা
পরিচালক – কাজী হায়াৎ
শ্রেষ্ঠাংশে – মান্না, মৌসুমী, শাহীন আলম, ময়ূরী, কাজী হায়াৎ, কাবিলা, দুলারী, মিজু আহমেদ, রাজিব প্রমুখ।
উল্লেখযোগ্য গান – এই সরকার, আমার জীবন নামের ফুল
মুক্তি – ২২ জুন ২০০১
কাজী হায়াতের ছবির প্রধান বৈশিষ্ট্য বাস্তবকে স্তরে স্তরে তুলে ধরা। কোথায় কতটুকু অপরাধ হতে হতে সমাজের অধঃপতন হয়েছে তিনি খুব নিখুঁতভাবে স্টাডি করে তবেই ছবি নির্মাণ করেন। এই স্টাডিতে তিনি বক্তব্যধর্মী পরিচালক। কাজী হায়াত তাঁর এ এক্সপেরিমেন্টে সবচেয়ে সফল হয়েছেন নায়ক মান্না-কে দিয়ে এবং তাঁদের নির্মাতা-শিল্পী কম্বিনেশনে বাস্তববাদী একটি ছবি ‘তাণ্ডবলীলা।’
একটা ঘটনার রেশ কোথা থেকে কোথায় গিয়ে থামতে পারে এবং রাজনীতির অঙ্ক কতদূর পর্যন্ত গড়িয়ে অপরাধ বাড়তে থাকে ছবির গল্প সেটাই তুলে ধরেছে। মৌসুমী সত্য প্রকাশের পরে তার সম্পাদক তাকে সমঝোতার প্রস্তাব দিলে সে চাকরি ছেড়ে চলে যায়। তার আগে রাস্তায় তাকে রাজিবের পোষ্য গুণ্ডারা ধর্ষণের চেষ্টা করে। সেই ধর্ষণের চেষ্টা থেকে হাসপাতালে রাজিব আসে মৌসুমীকে দেখতে। তাকে বাজে কিছু প্রশ্ন করে। মান্না-ই মৌসুমীকে উদ্ধার করেছিল বখাটেদের থেকে। মৌসুমীর বাবা পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে রাজিবের সাথে পেরে না উঠলে মান্না তাকে ভুল বোঝে। বেরিয়ে আসে কাজী হায়াতের অন্য গল্প। তারপর আরো কিছু ঘটনা এবং মান্না, শাহিন আলম-দের পলাতক হয়ে থাকতে থাকতে রাজিবের মোকাবেলার পথ খোঁজা।
রাস্তায় কেউ বিপদে পড়লে মানুষ প্রাণের ভয়ে এগিয়ে আসে না। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ হতে থাকলেও দাঁড়িয়ে দেখে লোকজন। এ পরিস্থিতিতে মৌসুমীকে উদ্ধার করতে আসা মান্না বলে-‘কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাণ্ডবলীলা দেখছেন!’ সমাজটা এখনও অপরাধীদের তাণ্ডবলীলায় পরিণত হয়েছে। আজকের বাংলাদেশের জন্যও সত্য এটা। মান্না, মৌসুমী, রাজিব, কাজী হায়াৎ সবাই অসাধারণ অভিনয় করেছে।
মান্না-র বাবা মুক্তিযোদ্ধা। সার্টিফিকেট দেখালে চাকরি হবে তার বিশ্বাস কিন্তু ছেলে ফেস করে অন্য বাস্তবতা। বাবার বুঝতে দেরি হয়। চাকরি নামের সোনার হরিণকে ঘিরেও যে দেশে ক্ষমতাবানদের তাণ্ডবলীলা চলে সে কথাও বর্ণনা করা হয় মান্না-র লিপে –
‘এই সরকার
একটা চাকরির খুবই দরকার
বড় দরকার
নইলে অভাবের সংসারে অসহায় ছেলেরা
হাতে তুলে নিতে পারে অস্ত্র
দাও অন্ন, দাও বস্ত্র
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content