টাক মাথায় চুল গজানো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য 🙂
.
.
মাথার চুলের জীবনচক্র এমন যে শতকরা আশিটা চুল থাকে বৃদ্ধির স্তরে , বাকি কুড়িটা স্থিতাবস্থা বা পরিণতির স্তরে । দিনে ৫০-৬০টা চুল ওঠা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক এক নিয়ম । এর বদলে নতুন চুল গজায় আপনা থেকে ।
.
চুলের ত্বকের ভেতরকার অংশ থাকে কেশকূপ বা ‘ হেয়ার ফলিকল ’ – এর মধ্যে , যার গোড়ায় সাজানো থাকে সজীব কিছু কোষ বা ‘ হেয়ার ম্যাট্রিক্স ‘ । চুলের রং , গড়ন , বৃদ্ধি , চুল পড়া , টাক পড়া— সবই এই কোষগুলোর কাজ । বংশগতি ছাড়া পুং – হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের কিছু প্রভাব থাকে এগুলোর ওপর ।
.
একটা বয়সে চুল পড়ে টাক পড়া বেশিরভাগ সময় বংশগত । একে আটকানোর ক্ষমতা কোনও ওষুধের নেই , কোনওদিন থাকবেও না ।
.
পরচুলা পড়া , হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা এখনকার হেয়ার উইভিং পদ্ধতিতে টাক ঢাকা ছাড়া , টাকে চুল গজানো অসম্ভব ।
.
হাজার মলম , হাজার ভিটামিন , ভাইটালাইজার , ফার্টিলাইজার ( ! ) যাই মাথায় ঘষুন , টাক পড়ার হলে পড়বেই । বেশি বয়সে নিয়ম মেনে হালকা হবে চুল । যৌবনান্তে শরীরে পুং হরমোন বেড়ে চুল পড়বে কিছু মহিলার , কারও বা দেখা দেবে টাক । মাথার ত্বকের নানা রোগে চুল বেশি পড়তে থাকলে অবশ্য অনেক সময় চর্মরোগের চিকিৎসায় কাজ হয় ।
.
প্রচণ্ড মানসিক চাপ , অসুখ বা অপুষ্টিতে ভুগলে হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে চুল ওঠা । ক্যানসার কেমোথেরাপির কিছু ওষুধে এরকম হতে পারে । এক্ষেত্রে মূল কারণটা দূর হলে আবার গজাবে চুল । সে আপনি মাথায় কিছু লাগান বা না – লাগান । যতক্ষণ কেশকূপ বেঁচে আছে , চুল আবার গজাবে , কেশকুপ ধ্বংস হলে গজাবে না ।
.
কেশকুপকে বা ম্যাট্রিক্সের কোষগুলোকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কোনও মলম , তেল বা ভাইটালাইজারের নেই । নেই কোনও সাবান বা শ্যাম্পুর । বিজ্ঞান তাই বলে ।
.
মাথার তেলের একমাত্র কাজ চুলকে চকচকে করা । শরীরের পুষ্টিই চুলের পুষ্টি । চুলের গোড়ায় কালমেঘ ঘষুন বা জবাপাতা বাটা , ভিটামিনযুক্ত তেল ঘষুন বা প্রোটিন বা গালভরা নামের অন্য ওষুধ , কোনওটাই চুলের গোড়ায় গিয়ে পুষ্টি জোগায় না , জোগাতে পারে না ।
.
বহু চুলের তেল বা শ্যাম্পুতে থাকা ‘ আধুনিক ওষুধ ’ ( যদি আদৌ থাকে ! ) চুল ধোওয়ামাত্র বেরিয়ে যাবে পানির সঙ্গে , চুল থাকবে যে – কে – সেই ।
.
ওষধিযুক্ত তেল , ভিটামিনযুক্ত ভাইটালাইজার বা শ্যাম্পু অথবাঁ কেরাটিনযুক্ত চুলের আশ্চর্য তরল মাখা আর না – মাখা তাই এক ব্যাপার ।
.
চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোয় চুল নিয়ে এই হল মোদ্দা কথা । এবার চুলে কী মাখবেন , কেন মাখবেন , এসব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভাবনাচিন্তা করে ।
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content