জ্যেষ্ঠপুত্র (Jyeshthoputro) Bangla Movie Review Download 720P 1080P 480P
জ্যেষ্ঠপুত্র (২০১৯)
(SPOILER ALLERT)
পটভূমি
বাবা (ইন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়)র মৃত্যুসংবাদ পেয়ে নিজের ‘দেশের বাড়ি’ বল্লভপুরে অনেকদিন পরে আসেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্দ্রজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়), মৃত্যু পরবর্তী নিয়মাবলী পালন করতে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ হয়ে। তাঁর ছোটো ভাই পার্থ (ঋত্বিক চক্রবর্তী), তার স্ত্রী ইলা (শ্রেয়া ভট্টাচার্য্য), বোন ইলা (সুদীপ্তা চক্রবর্তী) এবং সুদেষ্ণা (গার্গী রায়চৌধুরী) সহ অন্যান্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক,কথপোকথন ও কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে থাকে গল্প।
আমার চোখে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’
চিত্রনাট্য হিসেবে একমাত্রিক , ছিমছাম, অনারম্বর একটি গল্প। তবে যা নজর কারে তা হল গল্প বলবার ধরন। যে ভাবে Execute করা হয়েছে, সেটা সত্যিই উচ্চ মানের হালকা Slow Pace এ গল্প এগোলেও, এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না যে, জোর করে কোনো Scene Stretch করা হয়েছে…প্রথম থেকেই দর্শকরা attached থাকতে পারে Cinema এর মধ্যে। আর ঘটনাগুলো এত সুন্দর করে একটা সুতোয় গাঁথা, যে দর্শক খেই হারায় না কখনোই।
ক্যামেরার কাজকেও প্রশংসা করতে হয়… Overwhelming কাজ না থাকলেও One-Take ও Close-Angle Shot গুলো বেশ ভালো লাগে। Cinerma শুরুর প্রথম Shot টা আমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছে, যেখানে সকল কলাকুশলীদের নিয়ে Shooting এর একটা Arrangement টা দেখানো হয়ছে।
তবে গল্পের আসল USP হল, Dialogue এবং অভিনয়। এই পুরো কাজটিই সম্ভব হতো না কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মত Director ছাড়া। কিছু সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম দিকও এতো সুন্দর ভাবে বলা হয়েছে, যে মন ছুঁয়ে যায়। ইন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুদানপ্রাপ্ত গ্রামের এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চরিত্র সুদেষ্ণা। ব্যক্তিত্বপূর্ণ মোলায়েম এই চরিত্রটি গার্গী রায়চৌধুরী খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে। তার সঙ্গে সুদূর অতীতে ইন্দ্রজিতের এক নিগুড় সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান সময়ে তা অনেকটাই ‘ফিকে’। তবে সমস্ত সেই পরিবারের প্রতি সকল দায়িত্ব ই সমান ভাবে পালন করে সে। আলাদা করে নজর কারে ইলা চরিত্রটি। সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েও অত্যন্ত মানবিক এক চরিত্রের রূপ দিয়েছেন সুদীপ্তা। তার ছেড়া জামাকাপড় পড়ে আলুথালু বেশে সাবলীল ঘুড়ে বেড়ানো, দরজায় খিল দিয়ে দেওয়ার পর বেড়োনোর জন্য আকুতি, হঠাৎ বাবাকে মৃত্যুসজ্জায় দেখে তীরস্বরে চীৎকার করে ডাকা, ভীরের মাঝে আটকে গিয়ে ডুকরে কান্না, হন্নে হয়ে সকলে খোঁজার পরও নির্বিকার ভাবে উত্তর দেওয়ার মাঝেও হঠাৎ করে পুরোনো নাচ আমাদের emotional করে তোলে।
তবে যদি প্রান বলতে হয়, তবে তা প্রসেনজিৎ ও ঋত্বিকেরই প্রাপ্য। ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের মধ্যে যেন ‘নায়ক’ এর ‘অরিন্দম’ এর আবছা প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। তার চাল-চলন, কথা বলা, গাম্ভীর্য সব দিক দিয়েই যেন তিনি ‘অভিনয়’ তেও প্রমাণ করে দিলেন, তিনিই ‘Industry’!! তবে মনে হয়ে যে সিনেমায় ‘মুখ্য নায়ক’ সেই Theatre এর অভিনেতা ‘পার্থ’র চরিত্রে ঋত্বিক এক কথায় অসামান্য। এমনিতেই তিনি সকল ক্ষেত্রেই কেবল ‘অভিনয়’ করেন না; যেন প্রতিদিনকার মত ই ঘোরা-ফেরা– কথাবার্তা বলে। তবে এই ক্ষেত্রে মনে হয় তিনি সবটা উজার করে দিয়েছেন। যেকটা scene এ তিনি ছিলেন, সব কটাই প্রশংসার যোগ্য। তা দিদি ইলা কে ভঙলিয়ে ভালিয়ে ঘরবন্দী করার পর দিদি বার বার চিৎকার করার পর ‘শস্স্..’ করে শাসানোই হোক বা বাড়িতে দাদাকে দেখতে ভিড় করা সামলাতে চিৎকার করা ও বাড়ি থেকে বেড়িয়ছ যাওয়াই হোক, সব ক্ষেত্রে এক অন্যরকম ছাপ যেন রেখে গেছে।
নিঃসন্দেহে সিনেমার শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হল ২ বার দুই ভাই এর মধ্যে দীর্ঘ কথপোকথন। তার মধ্যে প্রথমবার পার্থ তার দাদার কাছে তাদের বাড়ি বিক্রি র জন্যে NOC চায়; তার পর কথা গরায় ইলা কে নিয়ে; তবে বোঝা যায় কথার মূল প্রতিপাদ্য হল ইন্দ্রজিৎ এর এত খ্যাতি, নাম, যশ… আর তার ভান্ডারে কেবলমাত্র শূন্যতা… মাদকাশক্ত অবস্থায় তার আসল আকুতি টা বেড়িয়ে আসে ‘…কিছু চাই না তো..অর্থ, Tollywood এ মুখ দেখানোর সুযোগ, অভিনয় টা তোর থেকে হয়তো ভালই করি…’ । সেটা স্বীকার ও করে ইন্দ্রজিৎ। ‘তুই আমার থেকেও একজন ভাল অভিনেতা পার্থ..anyday.. কিন্তু তার পরও যেন কী একটা থাকে, যার জন্য একজন নায়ক হয়ে যায়, আর বাকিরা পার্শ্ব….’। এই কথার রেশ ধরেই পরের দিন আরও চূর হয়ে পার্থ যায় দাদার Resort এ। আদতে আগের দিনের কথাবার্তার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করলেও ‘নাটক-টাটক’ থেকে সেখানেও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায় আর পার্থ ও যেন এত দিন ধরে জমিয়ে রাখা দাদার ওপর সকল অভিমান-অভিযোগ ঝেড়ে ফেলতে থাকে দাদারই ওপর। তা সত্ত্বেও ছোটভাই এর দুর্বল অবলম্বন সবসময়ই হেরে যেতে থাকে সবল দাদার প্রাচুর্যের কাছে। তবে তারশেষ কথাগুলো যেন আমাদের ভেতরে গেঁথে যায়.. পরদিন সকালে সটান দাদাকে বারন করে দেয় শ্রাদ্ধ কাজে না আসতে।’এতদিন আমি বাবাকে একা দেখেছি দাদা। কারো টিকিও দেখিনি…আমি চাইনা সেদিন কোনো Star বা Superstar আসুক…কাল বাবা শুধু আমার থাক্।
চীরকালের Devine in Success…পাপীরা দীর্ঘায়ু হয়, জোচ্চোরের সম্পত্তি বাড়তে থাকে..আর কিছু সাধারন অভিনেতা Superstar হয়ে যায়। ..আমি কি নাটক করি সবাই জানে; আমিও জানি। আমি যেটা পেরেছি সেটা তুমি পারনি ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’!! তুমি বাবাকে পাওনি, সন্তান হয়ে উঠতে পারনি..সেই হিসেবে যোগ্যতায় আমি বড়, তোমার চেয়েও বড়…..’। ‘ঋত্বিক’ যেন আক্ষরিক অর্থে ই ‘পার্থ’ হয়ে দর্শকের ভেতরটা নাড়িয়ে দেয়। আর Cinema এর একেবারে শেষ ভাগে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ ইন্দ্রজিৎ এর একটা শ্রাদ্ধের Card এর পিছনে NOC র সম্মতিপত্র লিখে তা সেই গভীর রাত্রে ‘বল্লভপুরের একমাত্র যে মানুষ টা Matter করে’ সেই সুদেষ্ণাকে দিয়ে শেষবারের মত গ্রামছেড়ে চলে যাওয়া টা বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ রূপে আমাদের কাছে ধরে দেয়… আর সত্যি কারের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ কে সেটি যেন আমাদের স্পষ্ট করে বলে দেয়: জীবনে সফলতার শিখরে থেকেও, চরম নাম-যশ নিয়েও ‘সন্তান’-এর ভূমিকায় যেন হেরে যায় জীবনের প্রতি পদে ব্যর্থ হওয়া ভাই এর কাছে॥
লেখকঃ
~আবেশ চ্যাটার্জী
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content