কারাগার পাট -১ বাংলা রিভিউ | Karagar Part -1 (2022) Hoichoi Bangla Review Download
‘কারাগার’ (নো স্পয়লার)
সৈয়দ আহমেদ শাওকি হইচই এর জন্য প্রথম নির্মাণ করেছিলেন ‘তাকদীর’। সেই সিরিজ দিয়েই হইচই ফেলে দিয়েছিলেন এই নির্মাতা। যদি প্রশ্ন করা হয় তাকদীরকে কি ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন তিনি? তাহলে উত্তরে বলবো তাকদীরকে ভুলিয়ে কারাগারে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। কেন বললাম তার উত্তর সিরিজের পাওয়া যাবে।
ট্রেলার দেখার পর থেকে সিরিজটি দেখার জন্য ব্যাপক আগ্রহ জন্ম নিয়েছিলো। আবার অনেক প্রশ্নও ছিলো যে একজন মানুষ ২৫০ বছর ধরে বেঁচে আছেন তাও আবার কারাগারে বন্দী! সেই সেল আবার ৫০ বছর ধরে বন্ধ! ওপর দিয়ে তিনি বলছেন মীর জাফরের খুনও তিনি করেছেন। কোথাও যেন হিসেবটা মিলে না। কারণ প্রথম কথা হলো মীর জাফরের সময় সাংকেতিক ভাষার প্রচলন ছিলো কি? থাকলেও ২৫০ বছর পর এসে সেই ভাষা এখকার মানুষ সহজে বুঝে যাচ্ছেন কিভাবে? অন্যদিকে আরেকটি প্রশ্ন হলো মীর জাফরকে তো খুন করা হয় নি, তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু এই যে ১৪৫ নং সেলে বন্দী কয়েদি, তিনি আবার মিথ্যাও নাকি বলছেন না! একটা সময় মনে হবে ভৌতিক গল্প। কয়েকটি পর্বে সেটা সত্য মনে হবে আফজাল হোসেনের এক্সপ্রেশন দেখে।
অভিনয়ের দিক থেকে ইন্তেখাব দিনার অসাধারণ। তাকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখতেই মনে হয় বেশি ভালো লাগে কারণ এই জায়গাটায় তার অভিনয়ের ম্যাজিকটা সুন্দর ফুটে ওঠে। চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে সত্যি বলার মতো ভাষা ভালো দিন দিন হারিয়েই ফেলছি। হঠাৎ করে আসেন আর বহুদিন মাথায় আটকে থাকেন যতদিন পর্যন্ত নতুন কোনো চরিত্রে পর্দায় না আসেন। একটা মানুষ পুরো সিরিজ অভিনয় করলেন কথা না বলে! শুধুমাত্র সাংকেতিক ভাষা প্রয়োগে অভিনয় চালিয়ে গেছেন। আবার দেখে মনে হবে না যে এই ভাষায় তিনি কাঁচা! মানে পুরো জমে ক্ষীর। ইদানীং নাট্যব্যক্তিত্বদের মধ্যে থেকে সিরিজে যারা আসছেন প্রত্যেকে যেন নিজের অভিনয় দক্ষতার পূর্ণাঙ্গ ঝলক দেখাতে পারছেন। এই দলে নতুন করে যুক্ত হলেন এফএস নাইম। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। এছাড়া এ.কে আজাদ সেতুকে বেশ ভালো লেগেছে। ইন্তেখাব দিনারের সাথে তার বোঝাপড়া দারুণ লেগেছে। তাসনিয়া ফারিণকে ভালো লাগলেও আশানুরূপ লাগে নি। জানি না আমার একারই মনে হলো কি না! হয়তোবা এক্সপেকটেশন অনেক বেশি ছিলো তার জন্যই এমনটা মনে হয়েছে। এছাড়া বিজরী বরকতউল্লাহ, শতাব্দী ওয়াদুদ, অশোক ব্যাপারী, আবদুল্লাহ আল সেন্টু সহ যারা ছিলেন বেশ ভালো অভিনয় করেছেন স্ক্রিনটাইম অনুযায়ী।
কারাগার পাট -১ বাংলা রিভিউ | Karagar Part -1 (2022) Hoichoi Bangla Review Download
পরিচালক সৈয়দ আহমেদ শাওকি সত্যি প্রতিভাবান একজন মানুষ। তার এই কাজে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে যেদিক গুলো তা হলো মাল্টিকাস্টিং। তাও আবার ঝানু ঝানু শিল্পীদের নিয়ে। সবাইকে ঠিকঠাক উপস্থাপন করাটা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। অন্যদিকে গল্পের সাথে মিল রেখে লোকেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সাজানো সব কিছু অসাধারণ লেগেছে।
একটা বিষয় চোখে লেগেছে জাস্ট সেটা হলো নাইম আর দিনার বন্ধু যেহেতু, সেই হিসেবে দুজন সমবয়সীই সিরি&জে । সেই হিসেবে এফএস নাইমকে আর একটু বয়স্ক লুক দেয়া যেত। তবে এটার একটা কারণ ছিলো হয়তো ইন্তেখাব দিনারের যে চরিত্রটি সেটা বেশ ঝামেলার ছিলো। অতিচিন্তা আর কাজের চাপে হয়তো তার চুল বেশি পেকে গেছে। আর সেজন্য বেশি বয়স্ক দেখানো হয়েছে।
KARAGAR
Season 01, Part 01 (স্পয়লার নেই)
‘প্রিজন ব্রেক’ বলেন আর হাল আমলের ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস (সিজন টু)’ – সকল প্রিজন ড্রামাতে বিভিন্ন ক্লাসের মানুষ আর ‘ল’এর মিক্সারে একটা রানিং প্লট থাকবেই। গল্প যেন সেখানে গতিময় থাকে তাই গল্পের সেকেন্ড লেয়ারে থাকে থ্রিল অথবা মিস্ট্রি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভায়োলেন্সও একটা জোরদার টুল হিসাবে নির্মাতারা ব্যবহার করেন। Shawki Syed এর কোন পথেই পুরোপুরি না হেঁটে একটা মিস্ট্রি ড্রামায় ক্যারেক্টারগুলোর ক্রাইসিসকে আলাদা মাত্রা দিয়ে গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বলাই যায়, ‘তাকদীর’কে ভুলিয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল চিত্রনাট্য বিভাগে! আমার মনে হয়, সিরিজ ডিজাইনটা এমনভাবে করা, অনেকবছর পরেও দুই পার্ট একসাথে করে দেখলে দারুণ লাগবে। নেয়ামত উল্লাহ মাসুমসহ লেখায় যারাই কন্ট্রিবিউট করেছে সবাই বিশেষ ধন্যবাদ পাবে।
একটা ফিকশনাল কারাগার (যদিও শুট হয়েছে ঢাকার আগের কেন্দ্রীয় কারাগারে), যাতে কয়েদী সংখ্যা এক রাতে গণনা করে একজন বেশি পাওয়া যায়। এমনিতেই জেলার মোস্তাক সাহেব জেলে এক নারী ঢোকার স্ক্যান্ডালে উপরের চাপে আছেন, তার মধ্যে যুক্ত হয় ১৪৫ নাম্বার সেলের বোবা এক মিস্ট্রিম্যান। সে কে, কোথা থেকে এলো, তার আগমন ও উপস্থিতি জানতে মোস্তাক সাহায্য নেয় ডিবিতে থাকা বন্ধু আশফাকের। আবার আশফাক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহারে মিস্ট্রিম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে যুক্ত করে মাহাকে। এই জেলের ভেতর ও বাইরের চরিত্রগুলোকে কিভাবে মিস্ট্রিম্যান প্রভাবিত করছে সেটাই সিরিজের প্রথম পার্টের গল্প।
পজিটিভ দিক –
খুব সম্ভব এই প্রথম Chanchal Chowdhury তেমন একটা শব্দ উচ্চারণ না করেও পুরো শো’তে অভিনয়ের প্রদর্শনী দেখালেন ও মাতিয়ে রাখলেন পুরোটা সময়। এক কথায় ‘হ্যাটস অফ’ এমন একটা চরিত্রে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য। Intekhab Dinar আর MD Faruk Sobhan এর বোঝাপড়া, ডায়লগ থ্রো এন্ড রিসিভ, ব্যক্তিগত জটিলতা পাশ কাটিয়ে পেশাগত এটায়ার ও বন্ধুত্ব দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। যার যার জায়গায় কিছু দৃশ্যে দুজন ফাটিয়ে দিয়েছেন। ভাল করেছেন ফারিণও, তবে চাওয়াটা আরো বেশি ছিল। আফজাল হোসেন অল্প স্ক্রিনপ্রেজেন্স পেলেও সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সেরা অভিনয় করেছেন। A K Azad Shetu র ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্রটা খুব ভাল লেগেছে।
এছাড়াও অনেক সাপোর্টিং ও অতিথি শিল্পীও ভাল করেছেন। সিরিজের অভিনয় সবচেয়ে শক্তিশালী পার্ট। এরপর অবশ্যই গল্পের ভিন্নতা, গভীরতা। ভাল লেগেছে বরকত হোসাইন পলাশের ক্যামেরা, অনীমের এডিট, আলোর ব্যবহার ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।
নেগেটিভ –
শুধু পার্ট ওয়ান ধরলেও পর্বগুলো যেভাবে শেষ হচ্ছিল, রহস্যমানবীর মত কিছু চরিত্র রেখে যাওয়া হচ্ছিল বা চঞ্চলের চরিত্রের একটা ধাপ দেখার যে আকাঙ্খা সেটা মনমত হয় নি। ফারিণের’মাহা চরিত্রটি প্লেসমেন্ট অনুসারে ততটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। কয়েকটি পর্বে গল্পের ধারা থেকেও নজর চলে গেছে চরিত্রের ব্রিফ করতে। মাহা ও মিস্ট্রিম্যানের জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার অনেকটাই ইলজিক্যাল ও মেনে নেয়া কষ্টসাধ্য।
পার্ট টু না দেখে এখনই অনেক কিছু জাস্টিফাই করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সিরিজটা বেশ ভাল জায়গায় আছে।
Rating – 8/10
৭ পর্ব বিশিষ্ট সিরিজটি ঘন্টার হিসেবে প্রায় ৩ ঘন্টার বেশি। এক মিনিটের জন্য বোরিং লাগবে না সিরিজটি। কারাগারের দ্বিতীয় পার্টে খুলবে রহস্যের আরো জট। সেই পর্যন্ত পরিচালক নির্দয়ভাবে আমাদের অপেক্ষা করিয়ে ছাড়বেন!
COPYRIGHT: If you believe that any content on this site infringes your copyright,please send a takedown notice using a verifiable email address to: [email protected]We will review your request and respond promptly, typically within 2 business days, to address and remove any infringing content